প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬
নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়েই তাকে হত্যা করে তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার মূল রহস্য।
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক।
পুলিশ সুপার জানান, মাধবদী থানার আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা (২৮)-র সঙ্গে পূর্ব থেকেই আমেনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। অন্যদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামের মাতবররা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে।
এদিকে আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই আমেনাকে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময় হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এবং অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরাকে গাজীপুরের মাওনা এবং অপর অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে এর আগেই গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় চারজন ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমেনার সৎ বাবা দাবি করেছিলেন, বুধবার রাতে বখাটে একটি চক্র তার সামনে থেকেই আমেনাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ns coll