প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাবেন তারেক রহমান। আগামী মে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে, এবং এ লক্ষ্যেই কাজ করছে ভারত সরকার। সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে জোরদার করতে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান-কেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। সফরকে স্মরণীয় করতে ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চমাত্রার রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তাও দিতে চায় ভারত।
এদিকে সোমবার (০৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফর ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সেচের জন্য ডিজেল আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এরই মধ্যে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতে সফর করে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন, যা এই সফরের প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
ns coll