নরসিংদীতে পায়ু পথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু হত্যা

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার উপজেলার গজারিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রামিম (৯) বাজারের পাশের চড়কারারদী গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, গজারিয়া বাজারে রামিমের দাদা আমজাদ হোসেনের ঢেউটিনের ব্যবসা আছে। তার বাবারও স্যানিটারির দোকান আছে সেই বাজারে। মানসিক সমস্যা থাকায় রামিম দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে সময় কাটায়। বাজারে দাদা ও বাবার দোকান থাকায় পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে বেশি চিন্তাও করেন না।
তারা আরও জানান, গতকাল সকালে দাদার দোকানে যায় রামিম। পাশেই ফয়সাল মিয়ার রিকশা ও ইজিবাইকের গ্যারেজ। খেলতে খেলতে একসময় ওই গ্যারেজে যায় সে। সেখানে প্রতিবেশী লোকমান মিয়ার ছেলে রিকশাচালক সবুজ মিয়া ও শফিকুল রামিমের পায়ুপথে মেশিনের সাহায্যে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। পেট বাতাসে ফুলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সে চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে তাকে নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। স্বজনরা ঢাকার উত্তরায় ১১ নম্বর সেক্টরে বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রামিম মারা যায়।

গজারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘রামিম সারাদিনই বাজারে আমাদের সঙ্গে থাকত। অনেক ভালো ছেলে ছিল সে। আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা তার মৃত্যুতে শোকাহত এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এদিকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এলে রামিমের মা খাদিজা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানকে যারা এভাবে মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই।’
রামিমের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেটা সহজ-সরল ছিল। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ফয়সাল, সবুজ ও শিশির আমার কলিজার টুকরাকে এভাবে হত্যা করবে, আমি জানতাম না। আমি তাদের বিচার চাই।’
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ns coll

  • শেয়ার করুন