প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি খামারের কুয়োর পাশে ঘটে গেল এক বাস্তব জীবনের রোমহর্ষক বেঁচে ফেরার ঘটনা। ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর খালি হাতে রুখে দাঁড়াল চিতাবাঘের আক্রমণের বিরুদ্ধে। পিপারিয়া ফরেস্ট বিটের অন্তর্গত কুরসি খাপা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সত্যম ঠাকুর তার বাড়ির কাছে একটি খামারের কুয়োর ধারে খেলছিল। এমন সময় হঠাৎ কাছের ঝোপ থেকে একটি চিতাবাঘ বেরিয়ে এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সত্যম বলে, চিতাবাঘটি যখন তাকে আঁচড়ে দিচ্ছিল, তখন সে সাধ্যমতো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সে জানায়, ‘আমি কুয়োর কাছে খেলছিলাম, হঠাৎ ওটা আমার ওপর হামলা করে। আমি ওর ঘাড় চেপে ধরি। ও আমার পেট ও পায়ে আঁচড় দেয়, কিন্তু আমি জোরে চিৎকার করে ওকে দূরে ঠেলে দিই।’
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছেলের চিৎকার শুনে তার বাবা মহেন্দ্র সিং ঠাকুর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার বাবা জানান, ‘আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, দেখি সত্যম চিতাবাঘটির ঘাড় চেপে ধরে আছে। আমরা চিৎকার করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। তখন চিতাবাঘটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।’
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিশোরের পেট, হাত এবং পায়ে নখের আঁচড়ের আঘাত রয়েছে। তাকে পিপারিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
সাতপুরা টাইগার রিজার্ভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে একটি দল পাঠানো হয়। সহকারী পরিচালক আশিস খোপরাগাড়ে জানান, শিশুটি ও তার পরিবারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বনরক্ষী বরবেন্দ্র শাহ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের আক্রমণ অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আক্রান্ত কিশোরের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ১,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামগুলোতে চিতাবাঘের আনাগোনা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তবে, কর্মকর্তাদের মতে, শিশুদের সাথে চিতাবাঘের এ ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ঘটনা বেশ বিরল।
Ns coll