প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশে ফেরার আশায় সেখানে জড়ো হয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি।
বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পেতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চেকপোস্টের সামনে ট্রলি, ব্যাগপত্র, নারী ও শিশুসহ অপেক্ষা করছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তে এই ভিড় চোখে পড়ে।
সীমান্ত এলাকায় কেউ প্লাস্টিক পেতে বসে আছেন, কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল সোমবারও।
সীমান্তসংলগ্ন একটি ছাউনিতে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি জড়ো হয়েছিলেন, বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আরও ৩০ থেকে ৪০ জন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজনদের আটকে রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পর অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই অনেকে দ্রুত দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার (২৫ মে) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা ও মুর্শিদাবাদ—এই দুই জেলায় মোট ১২ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে তৈরি শিবিরে রাখা হয়েছে ৯ জনকে, যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৬ জন নাবালক-নাবালিকা। রোববার গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পদ্মাভবনে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে প্রথমে ৩ জনকে রাখা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সীমান্তে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশিদের দাবি, অভাবের তাড়নায় তারা কাজের খোঁজে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে নিউটাউন, দমদম, ডানকুনিসহ কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু হোল্ডিং সেন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
ইতোমধ্যেই তারা বিএসএফকে নিজেদের অবস্থার কথা জানিয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
ns coll