প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত না পাঠালে তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না এবং ব্রিকস সম্মেলনেও অংশ নেবেন না।
প্রতিবেদনটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে তিনি জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে ভারত সফরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে ঢাকা।
দ্য ট্রিবিউনের দাবি, এমনকি তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে ‘ফিফটি-ফিফটি’ভাবে সম্পর্কিত বলে দিল্লিকে জানানো হয়েছে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে এই আমন্ত্রণকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণের চেয়ে আলাদা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রচলিত রীতির অংশ হিসেবেই এই আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে ১০ আগস্ট ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—র-এর প্রধান পরাগ জৈনও ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকেও ভারতের প্রতি ঢাকার পরিবর্তিত মনোভাবের বিষয়টি উঠে আসে।
একই দিন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের পর ত্রিবেদী দিল্লিকে ঢাকার পরিবর্তিত অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁর নতুন ‘লুক ইস্ট’ উদ্যোগে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান দিল্লির কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে উভয় পক্ষই বর্তমানে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে দ্য ট্রিবিউন। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই পরস্পরের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের দিকেও ভারত নজর রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে ভারতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে দিল্লির অবস্থান সহজে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে সূত্রগুলো স্বীকার করেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা দিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।