প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৫
তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। শনিবার (২২ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘোষণা দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন,
“আমরা ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগবে। বিভিন্ন মুসলিম নেতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।”
৩৩তম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এ ঘোষণা দেওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজেপির মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি দাবি করেন,
“তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের স্বার্থে সচেতনভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,
“মন্দির বা মসজিদ নির্মাণে বাধা নেই, কিন্তু তৃণমূল ধর্মীয় আবেগকে রাজনীতির হাতিয়ার বানাচ্ছে। ৬ ডিসেম্বর তারিখ বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য প্রশ্নের জন্ম দেয়। সংখ্যালঘুদের জন্য তারা বাস্তবে কী করেছে, সেটাই প্রধান প্রশ্ন।”
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত মন্তব্য করেন,
“কেউ মসজিদ বানালেই তার সঙ্গে বাবরের সম্পর্ক তৈরি হয় না। তারা যদি মসজিদ নির্মাণ করতে চায়, করতে পারে।”
একই দিনে কলকাতায় তৃণমূলের বড় সমাবেশ
এদিকে ৬ ডিসেম্বর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বৃহৎ সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীকে ‘সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
তবে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তিনি ওই সমাবেশে যোগ দেবেন না।
পুরোনো বিতর্কও সামনে
হুমায়ুন কবির পূর্বেও দলীয় নির্দেশনা অমান্যসহ নানা আচরণের কারণে তৃণমূলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একাধিকবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন দল গঠনের হুমকিও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন।