ফেনীতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) নামে মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশন নামের ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসার আবদ্ধ কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত রোকসানা আক্তার লিপি সোনাগাজী উপজেলার কাছিম বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে এবং আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি ওই ভবনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।লিপি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক এবং পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন। লিপির সঙ্গে তার ১৩ বছর বয়সী কন্যাসন্তানও থাকতো।

নিহতের স্বজনরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মেয়েকে পাশ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি। আজকে তার মোবাইলে কল করে তাকে না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখে দরজা ভেতর থেকে লাগানো। পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিপির মরদেহ ঝুলছে।খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।তার মৃত্যুর খবরে স্বজন ও মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী হাসপাতালে ছুটে এলেও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিলা দলের এক নেত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো নেতা আসেননি। লিপির মরদেহ মর্গে পড়ে আছে অথচ কারও যেন কোন দায় নেই।

নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম। পাঁচদিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি। আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল। তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনো ঝামেলা ছিল না। কেন সে এমন করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই। সব কর্মসূচিতে সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল। সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না। যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয়ই কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে জরজেট ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল। গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ns coll

  • শেয়ার করুন