প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই সময়ে নকল প্রতিরোধে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেন তিনি। সেই মিলনই এবার পেয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব। ফলে তলানিতে নেমে আসা শিক্ষার মান বাড়াতে তার দিকে তাকিয়ে দেশবাসী।
তিনি দায়িত্ব পেয়েই মনোযোগী হন প্রশ্ন ফাঁস ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের। গত ১৫ বছর ধরে চলা প্রশ্ন ফাঁস ও এর গুজব থেকে রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রী নেন নানা উদ্যোগ। কেন্দ্রে কেন্দ্রে স্থাপন করা হয় সিসি-ক্যামেরা। শিক্ষকদের দেন নানা নির্দেশনা।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই মাস পর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। প্রথম দিন ছিলো এসএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা।
বিভিন্ন জনের সমালোচনার জবাব দিয়ে উতরে গেলেন শিক্ষামন্ত্রী। মিলন-জাদুতে অনুষ্ঠিত হলো প্রশ্ন ফাঁস ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশংসায় ভাসলেন তিনি।
আগের সকারের মন্ত্রীদের মতো দলবল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে না গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। তিনি রাজধানীর পাশাপাশি পরিদর্শনে যান সাভার ও মানিকগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে।
ঢাকা বোর্ডের অধীনে থাকা পাঁচটি ‘ঝুকিপূর্ণ’ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। কেন্দ্রগুলো হলো মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারের তেঁতুলঝোরা উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনবাজারের মীরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুরের মডেল একাডেমি। কথা বললেন অভিভাবকদের সঙ্গে। ঘুরে দেখলেন কেন্দ্র এবং সিসি-ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করলেন শিক্ষার্থীদের।
পরীক্ষা শেষে আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খুব সুন্দর পরিবেশ। স্কুল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং এলাকার জনগণও এই পরীক্ষা সম্পৃক্ত হয়েছে। সারা দেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি খবর নিয়েছি টেলিফোনে সারা বাংলাদেশে। সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলেছেন, পরীক্ষা সুন্দর হচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা আদৌ নেই, হয়নি এবং এই ধরনের কোনো আলোচনাও নেই।’
এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে গিয়ে আমি সিসি-ক্যামেরাগুলো দেখেছি এবং হেড এক্সামিনার কেন্দ্র সচিব তার কক্ষে বসেই রুমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, সিসি ফুটেজ আর্কাইভে রেখে দেবেন। পরে কোনো কমপ্লেইন এলে আমরা যেন ভেরিফাই করতে পারি।’
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম হানড্রেড পার্সেন্ট স্যাটিসফাইড, ইনক্লুডিং জেলা প্রশাসক, ইউএনও পুলিশ সবাই; পুলিশও প্রচণ্ড অ্যালার্ট ছিল। সবাই অ্যালার্ট এবং আমি দেখলাম সোশ্যাল কমিউনিটি তারাও অ্যালার্ট, অভিভাবকরা তারাও অ্যালার্ট। মানে এটা মনে হচ্ছে যেন শতভাগ কো-অপারেশন করছে। আমি খুব আশাবাদী যে এই শিক্ষাক্ষেত্রে সবার যে আগ্রহ রয়েছে এটা যদি এভাবে ননস্টপ চলতে থাকে, তবে আমরা বেটার জায়গায় যেতে পারব। এটা আমার আজকের প্রথম দিনের বিশ্বাস।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস করবে যারা, তারা যে যন্ত্রটি ব্যবহার করে সেই যন্ত্রটিকে আবার কারেকশন করার লোকও রয়েছে। সাইবার ক্রাইম যেন আমার এই সেক্টরে না হয়, এটা আমার অনেক দিন ধরে পূর্বপ্রস্তুতি আমার ছিল এবং সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্টদেরকে আমি যারা যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে এই প্রশ্নপত্র এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাদের সবার নম্বর আমি সাইবার ক্রাইম অথরিটির কাছে দিয়ে রেখেছিলাম। ইফ এনিথিং হ্যাপেনস তারা ইমিডিয়েটলি লোকেট করতে পারবে। দেখা যাক তারা ট্রাই করুক। আমরাও ট্রাই করি। লেটস ফেস দ্য প্রবলেম। আই অ্যাম প্রিপেয়ারড।’
পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ৩৬-এর পর দেখেছি ২০২৫-এও পরীক্ষার্থী একটু কমে গিয়েছে। তো সেই হারে এবারও কমেছে। তবে আমার মনে হয় পরিবেশ ফিরে আসবে এবং লেখাপড়ায় আবার মনোযোগী হবে। এটা আগামীতে বাড়বে বলেই আমার মনে হচ্ছে। এবারও সেই ট্রেন্ডটা আছে, করোনার পর থেকে ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছিল। মাঝখানে একটু স্টেবেল হয়েছিল। বাট গতবারও কমেছিল। আগামী দিনে নিশ্চয়ই আস্তে আস্তে আবার বাড়বে, তারা ঝরে পড়বে না।’
যানজটের কারণে কোনো শিক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে তাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাদের খানিকটা দেরি হয়েছে তাদের নিয়ে নিশ্চয়ই আমি আশা করব, তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়, ভয় না পায়। তাদের সহযোগিতা করাটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ।’
নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই কারিকুলাম নিয়ে কাজ করার জন্য বলেছি। তারা কাজ করছে। গতকাল থেকে আমি ডিরেক্ট সুপারভিশন শুরু করেছি। আজকেও সেই সুপারভিশন। এখন থেকে ননস্টপ কারিকুলামের ওপর সুপারভিশনের কাজ আমি করব। সামনে কয়েক দিন দেখি কি করা যায়। করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ ১১ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ns coll