নড়াইলে এক মায়ের গর্ভে ৭ সন্তান; বাঁচানো গেল না একটিও

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নড়াইলে এক প্রসূতি মা একসঙ্গে ৭টি সন্তান প্রসব করেছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় আগে ৬টি সন্তানের কথা জানা গেলেও তিনি স্বাভাবিকভাবে ৭টি সন্তান প্রসব করেন। এর মধ্যে ৩টি কন্যাশিশু ও ৪টি পুত্রশিশু ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় কোনো শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে। প্রসূতি সালমা বেগম ওই গ্রামের মহসিন মোল্যার স্ত্রী। তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে কালুখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৬টি শিশুকে দাফন করা হয়েছে। অপর একটি শিশুকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় প্রায় ৭ বছর ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে বর্তমানে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে একবার সালমা বেগম গর্ভবতী হয়েছিলেন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের কারণে সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ ১০ বছর পর তিনি আবার গর্ভধারণ করেন। কয়েক মাস পর চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার গর্ভে ৬টি সন্তান রয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরে সালমা বেগম ৭টি সন্তান প্রসব করেন।

মহসিন মোল্যার মা জানান, ৬টি সন্তানের খবর জানার পর পরিবারে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। পুত্রবধূর সেবাযত্নে কোনো কমতি ছিল না। গত সোমবার (৪ মে) বিকেলে হঠাৎ সালমা বেগমের পেটে ব্যথা শুরু হলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি করার পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথম সন্তান প্রসব হয়। নবজাতকটি কিছুক্ষণ পর মারা গেলে মহসিনের বাবা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে আরও একটি সন্তান জন্ম নেয়, সেও মারা যায়। দ্বিতীয় শিশুটিকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর বুধবার রাতে একে একে আরও ৫টি সন্তান প্রসব করেন সালমা বেগম। জন্মের কিছুক্ষণ পর তাদেরও মৃত্যু হয়।

মহসিন মোল্যার বাবা লতিফ মোল্যা বলেন, “রাতে জন্ম নেওয়া ৫টি শিশুর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কবর খুঁড়ে আমি নিজ হাতে তাদের দাফন করি। নিজ হাতে এতগুলো শিশুকে দাফন করার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। দীর্ঘ ১০ বছর পর আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের নিরাশ করলেন। আমার পুত্রবধূ এখনো যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন সে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে।”
প্রতিবেশী শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনা আগে কখনও শুনিনি। সালমা বেগমের গর্ভের সন্তানগুলোর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মাস। সে কারণে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি। হঠাৎ প্রসববেদনা ওঠায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’

ns coll

  • শেয়ার করুন