প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬
কাপাসিয়ার হাবিবুর রহমান তার অসুস্থ বন্ধু পাশের কালীগঞ্জের বিল্লাল মাঝিকে চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে দু‘জনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পথে হঠাৎ বিল্লাল মাঝির বুকে ব্যথা ওঠে। তাৎক্ষনিক তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে বন্ধুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত হাবিবুর রহমানও পরদিন মারা যান।
দুই বন্ধুর মরদেহ এখন কলকাতার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন দুজনের পরিবার।
নিহত বিল্লাল মাঝি (৫০) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির ছেলে এবং নিহত হাবিবুর রহমান (৫৭) একই জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্ধু হাবিবুর রহমানের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে প্রায় ২৫ দিন আগে ভারতে যান বিল্লাল মাঝি। কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে হাবিবুরের চিকিৎসা শেষে গত ৯ আগস্ট তারা দেশে ফেরার জন্য রওনা হন।
বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে হাবিবুর রহমান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর পরদিন তিনিও মারা যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বর্তমানে দুজনের মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এদিকে দুই বন্ধুর পরপর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফন করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিল্লাল মাঝির মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘দুই বন্ধুর একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে। আমরা চাই, তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হোক। দেশের মাটিতেই যেন দাফন করতে পারি, এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, ‘মরদেহ দুটি দেশে আনার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সেটিই আমাদের দাবি।’
ns coll