প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৫
ঢাকা, ১১ অক্টোবর – মার্কিন বাজারে নতুন শুল্ক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি আয় গত প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানির উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর) এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ২০১ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশভিত্তিক রফতানি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রচলিত বাজারের মধ্যে কানাডার পর মার্কিন বাজারই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। গত প্রান্তিকে ইইউতে রফতানি হয়েছে ৪৭৫ কোটি ডলারের পোশাক, যা ৩.৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
তৃতীয় শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাজ্যের বাজারে রফতানি হয়েছে ১২২ কোটি ডলারের পোশাক, বছর ব্যবধানে বেড়েছে ৬.৭৪ শতাংশ। এছাড়া কানাডার বাজার থেকেও গত তিন মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা ১৩.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এই সময়ে মার্কিন শুল্কচাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন, যার মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছিল। পরে তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়। ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেন, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশকে গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে হচ্ছে।
ইপিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই শুল্কচাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদি অটুট থাকায় মার্কিন বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটির রপ্তানিকারকরা।