বাগেরহাটে নিহত একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৬টায় চান্দেরকোলা এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদারকে।

অন্যদিকে মনিরার মা রাশিদা বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে। নিহতদের জানাজা ও দাফনে তাদের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এদিন বিকেলে স্বজনদের কাছে নিহতদের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের ঘরের মধ্যে লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও সুরতহাল শেষে রাত ৮টার দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও, নিহত আহাদ ও তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন এবং কোনো মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।

তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুরিসহ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, আহাদের মা মনিরা বেগম, আহাদের নানি রাশিদা বেগম।

রাশিদা বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত মনিরার বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার।

এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও, মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার কারণ অনুসন্ধ্যান ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।অন্যদিকে হত্যার কারণ সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত মনিরার এক প্রতিবেশী জানান, মনিরা বেগম পরের বাড়িতে কাজ করলেও, ছেলেদের ও নিজের আয়ের টাকায় একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন। ওই ভবনের ছাদ দেওয়ার জন্য কিছু টাকা ছিল ঘরে। আর মনিরার একমাত্র মেয়ের কিছু স্বর্ণালংকারও মনিরা বেগমের ঘরে ছিল, এসব কিছু মানুষ জানত। এসব চুরি বা ডাকাতি করতে এসেও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলছে আহাদ ও তার মায়ের কোনো শত্রু ছিল না। আশপাশে যারা প্রতিবেশী রয়েছে, তাদের সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আহাদ ও তার মা যে ঘরে বসবাস করতে ওই ঘরের ৫০০ বর্গফুটের মধ্যে আরও দুটি ঘর রয়েছে। সেসব ঘরের লোকজন কিছুই টের পায়নি এ জায়গাটায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে। আবার দুদিন ধরে একটি পরিবারের কাউকে দেখা যাচ্ছে না এবং প্রতিবেশীরা কেউ খুঁজচ্ছে না।
ns coll

  • শেয়ার করুন