প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৫
ঢাকার নবাবগঞ্জে একই মাদ্রাসার পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এক অভিভাবক নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে থানায় বলৎকার বা ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ওয়াসিম (পিতা: হাজী মুকবুল, গ্রাম: যন্ত্রাইল) এর বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুসলিহুল উম্মাহ মাদানী মাদ্রাসার শিক্ষক ওয়াসিম দীর্ঘদিন ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করতেন। চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় যেতে না চাইলে তার মা কারণ জানতে চান। পরে শিশুটি কান্নার মাঝে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে একই গ্রামের আরও চারটি পরিবারের শিশুরাও একই অভিযোগ তোলে। তারা জানায়, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে একাধিক শিশুকে একইভাবে নির্যাতন করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক ওয়াসিম ২০ অক্টোবর রাতে পালিয়ে যান।
মাদ্রাসার পাশের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় শতাধিক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, শিক্ষক তাদের ঘটনাটি কাউকে না বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন,
“একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় পৃথক মামলা নেওয়া হয়নি।”
ঘটনাটি বর্তমানে নবাবগঞ্জের স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।