প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬
সালিসি বৈঠকে মেজাজ হারালেন মাদারীপুর–১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মনোনয়নে নির্বাচিত এমপি হানজালাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর সঙ্গে একটি সালিস বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তারা মিয়া বলেন, “ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিস বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
তারা মিয়া আরও বলেন, “যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় সালিসে উপস্থিত একব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
ns coll