আওয়ামী লীগের কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেনি: জামায়াত আমির

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক সিনিয়র নেতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন, কিন্তু একটা মানুষও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারলেন না।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারিতে অবস্থিত একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়েত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরোও বলেন, তারা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি এটাই বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত পরের দিন একজন সামরিক মেজর তাকে নিয়ে আসা হয় স্বাধীন ঘোষণা দেয়ার জন্য আর তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলো এটা তাদের মন মতো হলো না। তখন আবার দ্বিতীয় বার ঘোষণা দেয়া হলো সেটাও একজন সামরিক মেজর দিয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি মুক্তিযুদ্ধের প্রক্লেমেশন ঘোষণা করছি এটা বলার মতোও কেউ ছিলো না। স্বাধীনতার ঘোষণা তারা দিতে পারেনি। এখন তারা যেসব কথা বলে এটা ভিন্ন।তিনি আরও বলেন, ইতিহাসকে জবাই করলেও মুছা যায় না। ইতিহাস কোন না কোনভাবে আবার ফিরে আসে। যার যেখানে যে অবদান সেটাকে আমরা স্বীকার করার পক্ষে। স্বাধীনতার উষালগ্নে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পতকা উত্তোলন করেছিলো আ,স ম আব্দুর রব এটাও কেউ স্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী তাকেও কেউ স্মরণ করে না। জাতির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে অবদান রাখেন তাদের কেউ স্মরণ করতে চায় না। রাজনীতিতে যারা ক্ষমতায় আসে তাদের লোকজন ছাড়া,আর কাউকে তারা চোখে দেখে না। তখন সকল কিছুর অবদান ওই দলের আর ওই দলের নেতাদের।

গণঅভ্যুথান নিয়ে তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও হতো না। সেই ফ্যাসিবাদই আজ ক্ষমতায় থাকতো। শুধু জুলাইয়ে ১৪শ মানুষ নয়, ১৫ বছর সারাদেশে গুম খুনের রাজত্ব করেছিলো, তারা লুন্ঠনের রাজত্ব করেছিলো। এই দেশে যারা ক্ষমতায় থাকবে তারা জাতির ইচ্ছায় ক্ষমতায় থাকব, জাতির অপছন্দ হলে তারা চলে যাবে। এই পরিবর্তনটাই দেশবাসী চেয়েছিলো, বিশেষ করে যুব সমাজ। কিন্তু যুব সমাজের স্বপ্নের বুকে ছুরি মারা হয়েছে। এই পরিবর্তনের জনয দরকার ছিলো সাংবিধানিক সংস্কার যা বর্তমান সরকার অস্বীকার করেছে। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিলো। সেটাই এখন সরকার অস্বীকার করছে। অথচ এর আগে তারাই বলেছিলো গণভোটের রায় যা হবে তা সকলকে মানতে হবে। এখন তারা বলে নির্বাচনের ওয়াকওয়ে তৈরির জন্য নাকি তারা এটা বলেছিলো।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দ্বিতীয় গণভোট হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে। সে সময়েও আপত্তি করেন নাই। তৃতীয় গণভোট হয়েছে বেগম জিয়ার হাতে সেটাও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ গণভোট হয়েছে জনগণের হাতে, এইটা আপনারা মেনে নেবেন না’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ছেড়ে দেবো না। কথা ওনারাও দিয়েছিলেন। আমরাও দিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। ওনারা সরে গেছেন। আমরা গণভোটের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই দাবি আদায় করবো। জনগণের রায় বিফলে যাবে না।’তিনি আরোও বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে কেউ কউ নিজেদের মাস্টার মাইন্ড। আবার আন্দোলন চলাকালে কোন দলের বড় নেতা বলেছিলো এই আন্দোলন ছাত্রদের। এটার সাথে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়াও তিনি সারাদেশে চাদাবাজির বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য প্রদান করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদের একটা বাজেট দিয়েছেন। বাজেটে ৫০-৬০টি আইটেমে কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এক টাকাও কমেনি। কারণ সব জায়গায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ও আশ্রয়ে ওই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়।’

এ সময় জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, ‘বাজেটে অনেক কর ছাড় দেওয়া হলো, কিন্তু এতে যদি জনগণের জীবনে যদি ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বস্তি না আসে তাহলে এটার বেনিফিট কে নিচ্ছে?’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংবাদমাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্যকে তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের যুব সমাজ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করে, সেটা আমরা পেয়ে যাবো। এখানে যারা ক্যামেরা ধরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে কোনও বয়স্ক মানুষ তেমন নাই। আমি একজন যুবক এবং আপনারা আরও বেশি যুবক। আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি। এ সমাজ আপনাদের, শুধু আমার নয়, সবার। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যেতে চাই। আবার সেই সমাজের প্রয়োজনে যা উত্তম, যা কিছু ভালো, পরামর্শ দিয়েও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ করতে চাই, একটি ন্যায় বাংলাদেশ করতে চাই।
ns coll

  • শেয়ার করুন