প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬
প্রকাশিত:
ইরানে দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান বাগাড়ম্বরের মধ্যে এই মন্তব্য দিলো তেহরান।
গালিবাফের বরাত দিয়ে ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভি চ্যানেল জানায়, ‘মার্কিন সামরিক আক্রমণ হলে, ইসরাইল এবং মার্কিন সামরিক ও জাহাজ চলাচল কেন্দ্র উভয়ই আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।’ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতে, গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করলে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও জাহাজ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
অন্য একটি বার্তা সংস্থাও এই সতর্কীকরণের খবর প্রকাশ করেছে, উল্লেখ করেছে যে, ইরানের সংসদে এক বিশৃঙ্খল অধিবেশনের সময় এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। যেখানে আইন প্রণেতারা মঞ্চে ছুটে এসে চিৎকার করে বলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু!’
সংসদীয় হট্টগোলের বেশ কয়েকটি অযাচাইকৃত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে আইন প্রণেতারা একসাথে স্লোগান দিচ্ছেন, তবে হিন্দুস্তান টাইমস স্বাধীনভাবে এই ভিডিওগুলোর বিষয়বস্তু যাচাই করতে পারেনি।
গালিবাফ আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান কেবল প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ‘বৈধ প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে, আমরা কোনো পদক্ষেপের পরে প্রতিক্রিয়া দেখানোর মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখব না। আমরা ট্রাম্প এবং এই অঞ্চলে তার মিত্রদের ভুল পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য বলছি।’
এ সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘ভ্রান্ত’ বলে অভিহিত করেন।একই অধিবেশনে পৃথক এক বিবৃতিতে তিনি আরও জোরালোভাবে হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন। বলেন, ‘ইরানের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে, অধিকৃত অঞ্চল এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত সমস্ত আমেরিকান সামরিক কেন্দ্র, ঘাঁটি এবং জাহাজ উভয়ই আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।’
ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রোববারও তেহরান এবং মাশহাদে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল, কর্মীরা বলছেন যে অস্থিরতার সাথে জড়িত সহিংসতায় কমপক্ষে ১১৬ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইরানের মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস