প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ইরাক সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা তেহরানের বর্তমান অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইরাক সীমান্ত দিয়ে কুর্দি যোদ্ধাদের প্রবেশের বিষয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আগেভাগেই সতর্ক করেছিল প্রতিবেশী তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা। ইরান বারবার দাবি করে আসছে, বিক্ষোভে বিদেশি অনুপ্রবেশ রয়েছে।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক দিনে কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এই যোদ্ধারা মূলত চলমান গণবিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশে চরম অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। উল্লেখ্য, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানের একটি অভিজাত বাহিনী যারা অতীতেও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সফলভাবে দমন করেছে।তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআইটি’ বা আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তুরস্ক- যারা উত্তর ইরাকের কুর্দি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করে, গত কয়েক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে, ইরানে যে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।ইরানি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এসব যোদ্ধাকে ইরাক ও তুরস্ক থেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, তেহরান ইতিমধ্যে ওই দেশগুলোকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানে কোনো ধরনের অস্ত্র বা যোদ্ধা পাচার বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে চলা এই বিশাল গণআন্দোলন দমনে কর্তৃপক্ষের অভিযানে এখন পর্যন্ত ২,৬০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ক্রমাগত উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছে।