প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। এর মধ্যেই মার্কিন হামলার হুমকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় দূতাবাস জরুরি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পাশাপাশি নতুন করে দেশটি ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভারত সরকারের জারি করা পরামর্শের ধারাবাহিকতায় এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ‘যথাযথ সতর্কতা’ বজায় রাখার পাশাপাশি বিক্ষোভ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হলো।
ইরানে বসবাসরত সমস্ত ভারতীয় নাগরিক ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং দূতাবাসের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করার জন্য বলা হয়েছে।
ইরানে অবস্থিত সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের তাদের ভ্রমণ এবং অভিবাসন নথি, যার মধ্যে পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র রয়েছে, সমস্তকিছু নিজেদের কাছে রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে যেকোনো সহায়তার জন্য নাগরিকদের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।ভারতীয় দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগের হেল্পলাইন নম্বরও দেয়া হয়েছে। সেগুলি হল-৯৮৯১২৮১০৯১১৫; +৯৮৯১২৮১০৯১০৯; +৯৮৯১২৮১০৯১০২; +989932179359, ইমেল: cons.tehran@mea.gov.in
ইরানে থাকা এবং ভারতীয় দূতাবাসে নিবন্ধন না করা সকল ভারতীয় নাগরিকদের (https://www.meaers.com/request/home) লিঙ্কে গিয়ে নিবন্ধন করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে যদি কোনো ভারতীয় নাগরিক নিবন্ধন করতে না পারেন, তাহলে ভারতে তাদের পরিবারের সদস্যদের তা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি ‘দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে’ বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করে ‘অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার’ আহ্বান জানায়। মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘এখনই ইরান ছাড়ুন’।
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা।গত দুই সপ্তাহ ধরে এই বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক দুরাবস্থার জেরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পুরোপুরিভাবে রুপ নিয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। আর এই অজুহাতে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে।