প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়। আর ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম।সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই মজিদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মা মাজেদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে—এমন খবর শোনার পরপরই তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলার মধ্যে আটক থাকা বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে যান জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ।তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলার খবর শুনে আমার দাদী মাজেদা বেগম ভয় ও আতঙ্কে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে হামলা চালায়। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছেলের চোখ হারানোর খবর শুনে মা মাজেদা বেগম আর সহ্য করতে পারেননি। এই নির্মম হামলার দায় জামায়াতকে নিতে হবে।’
ওই ঘটনার বিষয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বগুড়া-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে তিনি বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোমবার রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ হেল গালিব প্রচারণা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও বলেন, একই দিন থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে দাঁড়িপাল্লার কর্মী ফারুক হোসেনকে মারধর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আটকে রাখেন। পরে এলাকাবাসী উদ্ধার করতে গেলে আবার হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। এসব অভিযোগ গুজব। তিনি সুন্দর ও মানবকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান।
ns coll