শিক্ষার্থীকে মারধর: ঢাবির হল থেকে ‘শিবিরকর্মী’ বহিষ্কার

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের দায়ে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ নামের এক শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নামে বরাদ্দকৃত আবাসিক আসনটিও বাতিল করেছে প্রশাসন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে ক্যাম্পাসে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিজয় একাত্তর হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষ-সংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মারধরের এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে মাহফুজের বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে জুনিয়র শিক্ষার্থী নীড়কে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

এই ঘটনার পর বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন। সম্প্রতি জমা দেওয়া ওই কমিটির প্রতিবেদনে মারধরের ঘটনায় মাহফুজের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, যাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের গুরুতর শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকেই গত ৬ আগস্ট থেকে অভিযুক্তের সিট বাতিল ও ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে ক্যাম্পাসে শিবিরকর্মী হিসেবে দাবি করা হলেও সংগঠনটি তা অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হওয়ার পর মাহফুজকে নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েমের পক্ষে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ দাবি করেছেন, মাহফুজের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে সাদিক কায়েমকে ভোট দেওয়া ১৪ হাজার ৪২ জন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই মাহফুজ কেবল আমাদের একজন সমর্থক মাত্র।’

ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাবি প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বহিষ্কারাদেশকে হলের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ns coll

  • শেয়ার করুন