একই সঙ্গে সংসদ অধিবেশন আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বিএনপি একদিকে ঋণখেলাপি ও হত্যামামলার আসামিদের মন্ত্রী বানিয়েছে, অন্যদিকে সংসদ সদস্যদের বৈধ সুবিধা না নিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দলটি ক্ষমতায় এসেই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে এনসিপির অবস্থান জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের দিন বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের দলের কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা নেবে না। এই প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েকটা বড় বড় বাজেটের মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং যারা ঋণগ্রস্ত। ফলে তারা এ মন্ত্রণালয়গুলো থেকেই দুর্নীতির এবং আর্থিক অসচ্ছতার কার্যক্রম করবে। একদিকে তারা বলছে, প্লট নেবে না, গাড়ি নেবে না। কিন্তু তারা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে গেল। ঋণ খেলাপিদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিচ্ছে। ফলে বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে ঋণ খেলাপি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বড় বড় বাজেটে মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে, যাতে সেই সকল মন্ত্রণালয় থেকে দুর্নীতির সুযোগ তারা পায়।

নাহিদ ইসলাম জানান তাদের আশা ছিল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত ও আদিপত্যবাদমুক্ত সুশাসনের বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে৷ কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন এনসিপির এই নেতা।তিনি বলেন, নানা কারণে আমাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। আমরা আশাহত হয়েছি। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।… নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হলেও নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। সেগুলো সত্ত্বেও আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা সামনের দিকে এগোতে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে আমরা শপথ গ্রহণ করেছি।সরকারি দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ নিবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোন মূল্যই নেই। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটের মাধ্যমে এই জাতীয় সংসদে যাচ্ছি। কারণ এই জাতীয় সংসদ শুধু জাতীয় সংসদ না, এই জাতীয় সংসদ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এবং সংবিধান পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যে সংস্কার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সংস্কার সে সংস্থাগুলো নিশ্চিত করবে।

একইসঙ্গে সংসদ অধিবেশন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়… এই সময় সরকারেরও বৈধতা থাকবে না।’
ns coll

  • শেয়ার করুন