চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর ভবনের নির্মাণসামগ্রী লুট

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে রূপগঞ্জে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন ভবন থেকে রডসহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের আউখাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাসুদুর রহমান মাসুদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাছেদ মিয়া বহু বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি ও তাঁর পরিবার আগে কুমিল্লায় থাকতেন। নিজ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি তিনি আউখাব এলাকায় জমি কিনে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। তাদের কাছে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মাসুদুর রহমান মাসুদ, তাঁর বড় ভাই সাদিকুল ইসলাম সাদিক এবং ছোট ভাই মাসুম আহমেদ মাসুমসহ কয়েকজন সহযোগী দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাসীর স্ত্রী সাদিয়া আফরিন বলেন, আমরা এখানে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করার পর থেকেই মাসুদ ও তাঁর সহযোগীরা দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় তারা কোনো ঝামেলা করেনি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের লোকজন এসে ভবন নির্মাণের জন্য আনা রডসহ নির্মাণসামগ্রী অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেয় টাকা না দিলে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে ক্ষতি করবে। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। কখন কী হয়, সেই ভয়ে আছি।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কে বা কারা আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন অপবাদ রটাচ্ছে, তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটন হোক এবং যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার মূল হোতা, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
মাসুদের বড় ভাই সাদিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঘটনার দিন আমি ব্যক্তিগত কাজে এলাকার বাইরে ছিলাম। হামলা বা মালপত্র নেওয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এটা আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপবাদ। তাঁর ছোট ভাই মাসুম আহমেদও একই দাবি করে বলেন, আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি। আমাদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় জমি কেনাবেচা ও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ নতুন নয়। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার পর থেকে প্রবাসীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে।

এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনার বিষয়ে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মাসুদুর রহমান মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর কালবেলা পত্রিকার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর মাহমুদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর মাহমুদ রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও জাহাঙ্গীর মাহমুদ মামলা করেন। দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর নয়া দিগন্তের সাংবাদিক মীর শফিকের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে মাসুদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মীর শফিক রূপগঞ্জ থানায় মামলা করলেও পরে সমঝোতায় সেটি প্রত্যাহার করা হয়।
ns coll

  • শেয়ার করুন