প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গার বুকে নৌকায় ইফতার মাহফিল আয়োজন এবং চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।গত সোমবার নৌকায় আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যুব শাখার নগর সভাপতি রজত জয়সওয়াল একটি পুলিশি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, এই ঘটনা হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, জয়সওয়াল আরও দাবি করেছেন যে ওই ব্যক্তিরা মাংসের উচ্ছিষ্ট অংশ গঙ্গা নদীতে ফেলেছিলেন, যা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্মকে অপমান করার উদ্দেশ্যে উপাসনালয় অপবিত্র করা, ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনো গোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে জনউপদ্রব, মিথ্যা তথ্য ব্যবহার এবং ‘পানি (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন’ এর আওতায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশে নৌকায় ইফতারি করার সময় মুরগির মাংস খাওয়ার অপরাধে মুসলিম ব্যক্তিদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র।সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে মহুয়া মৈত্র এই গ্রেফতারের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, ধর্মীয় পরিচয় কি খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতক্ষণ না এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ আইনত গঙ্গার ওপর চিকেন খাওয়ার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা যায় না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাদ্যভ্যাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জনপরিসরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং আইনের সিলেক্টিভ বা পক্ষপাতমূলক প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।