ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এখনও বিস্তারিত কোন খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী স্বয়ং এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও, মধ্য ইরানের একটিতে সেতুও হামলার শিকার হয়েছে।

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মূল ভূখণ্ডের উপকূলভাগ অগভীর হওয়ায় বড় তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য এই দ্বীপটি অপরিহার্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৩০ মার্চ থেকেই এই দ্বীপটি ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া’ বা দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সোমবারও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

খার্গ দ্বীপে হামলার পাশাপাশি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা মঙ্গলবার ইরান জুড়ে কয়েক ডজন ‘অবকাঠামো সাইটে’ ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও ইসরাইল সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন জায়গায় হামলা হয়েছে তা প্রকাশ করেনি, তবে তারা একে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের’ বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই হামলাগুলো মূলত তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ইরানি সিদ্ধান্তের পর খার্গ দ্বীপে এই হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ঠিক বিপরীতে এই দ্বীপের অবস্থান হওয়ায় এটি সবসময়ই যুদ্ধের সহজ লক্ষ্যবস্তু ছিল। ট্রাম্পের আল্টিমেটাম অনুযায়ী, ইরান যদি মঙ্গলবার রাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে না আসে এবং হোরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করে, তবে ইরানের প্রতিটি সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একযোগে বড় ধরণের বোমাবর্ষণ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ns coll

  • শেয়ার করুন