জ্বালানি সংকটের মধ্যেই অর্ধশত গাড়ি নিয়ে ছাত্রদল নেতার শোডাউন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে অর্ধশত গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিক। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে তার এই আয়োজন।
সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তেল পুড়িয়ে এমন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত হাইয়েস ও প্রাইভেটকারের একটি বিশাল বহর বের হয়। বহরটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই তিনি এই গাড়ি বহরের আয়োজন করেন। দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার বিভিন্ন সাশ্রয়ী নীতি মেনে চলছে। অথচ, এমন সংকটময় সময়ে ছাত্রদল নেতার এমন কর্মকাণ্ড সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সংকটকালে সরকারি দল বা যারা দায়িত্বশীল জায়গায় আছে সংকট উত্তরণে তাদের সবার আগে এগিয়ে আসা বা কাজ করা উচিত। সেখানে ছাত্রদল নেতা যেটা করেছে সেটা একদমই কাণ্ডজ্ঞানহীন একটি কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মিডিয়াকে ডেকে এ ধরনের কার্যক্রম লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে, যা অন্যদেরও একই ধরনের কাজে উৎসাহিত করতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা প্রামানিক বলেন, জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার আগেই শোডাউনে অংশ নেওয়া গাড়িগুলোকে এডভান্স করা ছিল। এটা ঈদের আগে রোজার মাসে করার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। ঈদের পরে গাড়ি চালকদের ভাড়ার চাপ কম থাকায় তারাও বলছিল এখন প্রোগ্রামটা করলে তাদের জন্যও ভালো হয়। সেকারণেই আজকে প্রোগ্রামটা করা। তাছাড়া শোডাউনে বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজি চালিত গাড়ি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, বিষয়টি আমিও দেখেছি। দেখে আমি তাকে কল দিয়েছিলাম। সে কল ধরেনাই। বর্তমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে যেখানে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। সেখানে এতোগুলো গাড়ি ব্যবহার করা এটি নিসন্দেহে অন্যায় হয়েছে। আমরা কেন্দ্রকে বিষয়টি অবগত করব। কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অবশ্যই তা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সংযম প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ns coll

  • শেয়ার করুন