প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬
কুমিল্লায় চুরি করতে বাসায় খাটের নিচে লুকিয়ে পড়েন চোর। লক্ষ্য ছিল ঘরের সবাই ঘুমিয়ে গেলে চুরি করে পালাবেন। কিন্তু খাটের নিচে লুকানো অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। হঠাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় হাত বেরিয়ে আসে খাটের বাইরে। ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে ঘরের বাসিন্দা খাটের বাইরে ফ্লোরে একটি হাত দেখতে পান। খাটের নিচে ভালো করে তাকিয়ে দেখেন ঘুমিয়ে আছেন এক ব্যক্তি। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে চোরকে খাটের নিচ থেকে বের করেন।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি দালানের খাটের নিচে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। খাটের ওপর মশারির ভেতরে একটি শিশু ঘুমাচ্ছে। খাটের নিচে ঘুমিয়ে পড়া সেই ব্যক্তিকে ডেকে হয়রান হচ্ছেন কয়েকজন। এ সময় উপস্থিত একজন সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তা ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই চোরের নাম মো. সোহেল। তিনি পাশের মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা। দাউদকান্দি উপজেলার বারোপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুরা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
গত রোববার রাতে দাউদকান্দির দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টর বাড়িতে দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসার রান্না ঘরের এক্সহস্ট ফ্যান কেটে সেখান দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। ওই ভাড়া বাসায় এক নারী তার দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। চোর সোহেল বাসাটিতে প্রবেশ করে ঘরের লোকজন সজাগ আছে দেখতে পেয়ে খাটের নিচে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।
ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ওঠেন সেই নারী। এ সময় খাটের বাইরে একটি হাত পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দেখেন খাটের নিচে ঘুমিয়ে আছেন চোর। পরে তাকে অনেক চেষ্টা করে খাটের নিচ থেকে ঘরের বাইরে নিয়ে বেঁধে রাখেন। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মারধর করে ছেড়ে দেন।
গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রকিব উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সে গত কয়েকদিন আগেও পাশের এলাকার একটি ঘরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। রোববার রাতে দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টরের মেয়ে কোহিনূর বেগমের দোতলা ভবনের বাইরের দেওয়াল টপকে রান্না ঘরের এক্সইস্ট ফ্যান কেটে সেখান দিয়ে প্রবেশ করেন। চোর স্বীকার করেছে সে একজন মাদকসেবি। চুরি করতে যাওয়ার আগে নেশা করে এসেছিল। তাই সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে ঘুম থেকে তুলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাথায় পানি ঢেলে তাকে সজাগ করে বাইরে আনতে হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল বারী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি কেউ। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ns coll