প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬
মা দিবসে সন্তানকে নিজের কিডনি উপহার দিয়েছেন শরীয়তপুরের স্কুল শিক্ষিকা মা নাছিমা সুলতানা। ১১ মে রাজধানীর সিকেডি ইউরোলজী হাসপাতালে বিখ্যাত কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই কিডনি দান সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় সাত বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কাটছিলো নাছিমা সুলতানার জীবন। কিন্তু সম্প্রতি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ধরা পড়ে তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে নাছিম জাহানের দুইটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। তরুণ নাছিমের শরীরে কিডনিজনিত রোগ সেভাবে স্পষ্ট না হতেই তাকে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মা নাছিমা সুলতানা। নানান চড়াই উৎরাইয়ের পর গত রবিবার দিবাগত রাতে তাদের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়। সুষ্ঠুভাবে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর বর্তমানে চিকিৎসকের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মা-ছেলে দুজনই।
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম নিজ হাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০র বেশি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছেন। তিনি বাংলাভিশনকে জানান, দেশে পুরুষদের কিডনি দাতার বড় অংশই মা। তার প্রতিষ্ঠান সিকেডি ইউরোলজী হাসপাতালের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে ২৫৩ জন মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। যার মধ্যে ৯৮ জন কিডনি দাতাই ছিলেন মা। অর্থাৎ ওই বছরের কিডনি দাতার ৩৯ শতাংশই ছিলেন মা।
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বাংলাভিশনকে বলেন, সন্তানের জন্য মায়েরাতো নিজের জীবন দিতেও কখনো দ্বিধা করেন না। আমরা আমাদের এখানে যে পরিমাণ কিডনি প্রতিস্থাপন করি তার প্রায় ৪৫ শতাংশেরই কিডনি দাতা থাকেন মা। এবারের মা দিবসে যেই মা তার সন্তানকে কিডনি দিয়েছেন এটি তেমনই একটি ঘটনা। যদিও এটি দিবস হিসেবে পরিকল্পিতভাবে হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ কিডনি দাতা ও গ্রহীতা দুজনই ভালো আছেন।
ns coll