প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি জনিত কারণে বাসের চাকার নিচে চাপা পড়ে দুলাল (২৫) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বাসটির ব্রেক ফেল করার পর যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন কর্তব্যরত এই হেলপার।
শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত দুলাল কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ‘আহসান পরিবহন’ নামের একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসের হেলপার বা চালকের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য টোল আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, যাত্রীবাহী বাসটি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী এলাকা থেকে ছেড়ে এসে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রাতের দিকে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই সেটির ব্রেক ফেল হয়। চালক আপ্রাণ চেষ্টা করেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত বাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না।টোল প্লাজার ব্যারিয়ারে ধাক্কা লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে গতিশীল বাসটিকে যেকোনো মূল্যে থামাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন হেলপার দুলাল।
তিনি দ্রুত চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে বাসের পেছনের চাকার নিচে কাঠের টুকরো বা ভারী কিছু একটা দিয়ে গাড়িটি থামানোর মরিয়া চেষ্টা চালান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গতিশীল বাসের চাকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দুলালের মৃত্যু হয়। তবে হেলপারের এমন তাৎক্ষণিক আত্মত্যাগের ফলে বাসটি বড় ধরনের সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় এবং বাসে থাকা কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ns coll