প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে অস্ত্র মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও তার সহযোগীদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন শরীফ। বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তাকে দুমকী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দুমকী থানার ওসি সেলিম উদ্দীন বলেন, সালাউদ্দিন শরীফ গত ১১ মে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন দুমকীর ইউএনও হিসেবে যোগ দেন আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। যোগদানের পর বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সালাউদ্দিন শরীফ ও তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ইউএনওর ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি তোলা হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত দুমকী উপজেলা বিএনপির নেতা জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও মতিউর রহমান এবং কৃষক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল ওয়াহাবসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানাতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে মামলার আসামি সালাউদ্দিন শরীফ কীভাবে এসে আমাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, তা বুঝতে পারিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মামলার সাক্ষী আবুল বাশার নিউটন বলেন, ‘গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন শরীফসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সালাউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছে না তারা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, তিনি উপজেলা পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছবি তুলছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’
সালাউদ্দিন শরীফকে গ্রেফতার করতে না পারার বিষয়ে দুমকী থানার ওসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলায় এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরও ১৫ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। সালাউদ্দিনকে গ্রেফতারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি কৌশলে চলাফেরা করছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
এ বিষয়ে ইউএনও আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ উল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
ns coll