নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সেই স্কুলকে জাতীয়করণের নির্দেশ

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, সংসদে আসার আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি একটি বার্তা পান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, দুর্গম তিন্দু এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন আদায় সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধান শিক্ষক নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে যাত্রী পরিবহন করেন। সেই আয় থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সহকর্মীদের বেতন হিসেবে দিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষকের আবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং তার নির্দেশে স্কুলটি জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় সর্বোচ্চ। শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দমুখর পরিবেশে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই টেকনিক্যাল, প্রফেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া স্টার্টআপ, উদ্ভাবন, বিতর্ক, অলিম্পিয়াড, স্কাউট, বিএনসিসি ও গার্ল গাইডসহ সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস, জুতা, মোজা, ব্যাগ এবং দেশব্যাপী মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে সারা দেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন এবং জুলাই মাসে বাকি অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার অর্থ পরিশোধেও বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ns coll

  • শেয়ার করুন