বোনকে ‘বিধবা’, ছেলে-ভাতিজাকে ‘প্রতিবন্ধী’ সাজিয়ে মেম্বারের পরিবারে ৫ ভাতা

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে অনিয়ম করে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে বিবাহিত বোনের নামে বিধবা ভাতা এবং সুস্থ ছেলে ও ভাতিজার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম মো. মুনির উদ্দিন। তিনি রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছলদের বাদ দিয়ে ইউপি সদস্য নিজের পরিবারের সদস্যদের সরকারি ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এতে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিনের আপন বোন সাবরিনা আক্তার পিংকির নামে ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) নম্বরে নিয়মিত বিধবা ভাতা তোলা হচ্ছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, তিনি মোটেও বিধবা নন। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু লোকমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত এবং তার স্বামী একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে চাকরি করছেন। বিবাহিত ও কর্মজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত সরকারি বিধবা ভাতা তুলছেন।

বোনকে বিধবা ভাতা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. মুনির উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমার বোনের আগে ডিভোর্স হয়েছিল। তৎকালীন এসিল্যান্ড ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে পরিষদে আলোচনা করেই তাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা হয়।’ তবে ডিভোর্সের পর পুনরায় বিয়ে হলেও বিধবা ভাতা বহাল থাকে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

শুধু বোনই নন, ইউপি সদস্য নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ছেলে ও ভাতিজার নামেও গড়ে তুলেছেন ভাতার জাল। ইউপি সদস্যের ছেলে মোহাম্মদ আবরার বিন মুনিরের নামেও রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতার এমআইএস নম্বর। স্থানীয়দের দাবি, আবরার সুস্থ এবং ইউনিয়নের একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করছেন।

একইভাবে ইউপি সদস্যের বড় ভাই মো. আলম উদ্দিনের ছেলে হাসান বিন আলম সাজিদের নামেও প্রতিবন্ধী ভাতা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সাজিদ রায়পুর এজাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালে তার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা।

ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দায়সারাভাবে বলেন, ‘তাদের প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করেই তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন।’

এ ছাড়া মুনির উদ্দিনের বাবা মো. শামসুল আলমের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা তাহেরা বেগমের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে। সব মিলিয়ে তার পরিবারের পাঁচ সদস্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে প্রকৃত প্রতিবন্ধী হয়েও ভাতা পেতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন। তার ১৯ বছর বয়সী বোন সেলিনা আক্তার জন্মগতভাবে বাক্‌প্রতিবন্ধী। প্রায় পাঁচ বছর আগে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সুবর্ণ কার্ড পেলেও ইউপি সদস্যের বাধায় তিনি ভাতা পাননি বলে অভিযোগ সেলিমের। পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে তার নাম ভাতার তালিকায় ওঠে।

আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রিজোয়ান উদ্দীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো নারী পুনর্বিবাহের পর বিধবা ভাতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং ভাতা বাতিলের স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। ইউপি সদস্যের ছেলে ও ভাতিজার প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়টিও নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হবে। এতে অসত্য তথ্য বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ns coll

  • শেয়ার করুন