মাঝ আকাশে বিমানের ভয়াবহ ঝাঁকুনি, জানা গেল গাঁজা খেয়েছিলেন পাইলট

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও আকস্মিক উচ্চতা হ্রাসের ঘটনার পর বিমানের প্রধান পাইলট দু’টি ডোপ টেস্টেই ফেল করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফুকেত থেকে দিল্লি আসার পর দিল্লির মাটিতে নামার পর প্রথম স্ক্রিনিংয়ে ওই পাইলটের শরীরে মাদকদ্রব্য সেবনের আলামত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আরও একটি টেস্ট করা হলে সেটিতেও তিনি পজিটিভ হন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন।

গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৯৭ ফ্লাইটটি ১৭৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ক্রুজ ফেজে থাকার সময় বিমানটি হঠাৎ করে তীব্র ঝাঁকুনির মুখে পড়ে এবং ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এর ফলে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজন কেবিন ক্রু মেরুদণ্ডে এবং ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানটি যখন হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে একটি ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতির মুখে পড়ে, তখন প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না, কো-পাইলট সেই সময় এয়ারবাস এ৩২০ নিও বিমানটি পরিচালনা করছিলেন। ঝাঁকুনির কারণে পাইলট ও ককপিটের ভেতরের বিভিন্ন বস্তু শূন্যে ভেসে ওঠে এবং বিমানের পেছনের অংশে যারা সিটবেল্ট বেঁধে বসেননি, তারা গুরুতর আহত হন।

নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে দুই পাইলটকেই ইতিমধ্যেই এয়ার রোস্টার থেকে অব্যাহতি (অফ-রোস্টার) দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) কাজ শুরু করেছে। এএআইবি টেকনিক্যাল, অপারেশনাল, মেডিকেল এবং মানবীয় সব দিক খতিয়ে দেখছে। এদিকে সিভিল এভিয়েশন মিনিস্টার রাম মোহন নাইডু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

  • শেয়ার করুন