প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
আগে থেকে মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মাটির নিচের সুরক্ষিত কারখানাগুলোতে পুনরায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন ও তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ একাধিক সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে বর্তমানে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। নতুন হামলা এড়াতে তেহরান আরও নতুন ভূগর্ভস্থ সংযোজন কারখানা গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল তাদের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, যা এই নতুন উৎপাদন তৎপরতার খবরে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। একদিকে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ধরে রাখতে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবার এবং সিআইএ-র সাবেক বিশেষজ্ঞ জিম ল্যামসন উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের আগেই ইরান প্রস্তুতকৃত ওয়ারহেড, এয়ারফ্রেম ও গাইডেন্স সিস্টেমের বিশাল মজুত গড়ে তুলেছিল। মজুত থাকা এসব প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে তেহরানের পক্ষে নতুন করে আরও কয়েক শত বা কয়েক হাজার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, ইরান ও তাদের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কারণে তারা সামরিকভাবে আগের চেয়ে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হতে দেবেন না।
নৌ-অবরোধ এবং কাঁচামালের আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ইরান দ্রুত গতিতে সুড়ঙ্গমুখ, সেতু ও সড়ক মেরামত সম্পন্ন করেছে। কিংস কলেজ এবং প্যারিসের সায়েন্সেস পো-র বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিপুল সামরিক নেটওয়ার্কের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্নির্মাণের সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে তেহরান।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল