26.2 C
Khulna
Saturday, August 30, 2025

নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন এক বিদেশি দম্পতি—বাংলাদেশের নাগরিক হতে চান তারা

উন্নত জীবনের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছে এমন হাজারো উদাহরণ আমাদের চারপাশে। তবে, জয়া বার্লিন ও জ্যাকব বার্লিনের গল্পটি একটু ভিন্ন। এই ভিনদেশি দম্পতি বিদেশের সব সম্পত্তি বিক্রি করে, গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজের নির্যাতিত এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী হতে শেখাচ্ছেন। ফরিদপুরে গড়ে তুলেছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পাঁচ সন্তান নিয়ে হতে চান বাংলাদেশেরই নাগরিক।

উদ্ভাবনী কাজে নারীদের স্বাবলম্বী করার আয়োজনে সরাসরি জড়িত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জয়া বার্লিন। তিনি বাংলাদেশি ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালবেসে আধো বাংলাতেই তাদের কাজ-কর্মের দিক-নির্দেশনা দেন।

ফরিদপুরে ট্রেনিং সেন্টারে যারা কাজ শিখছেন, তাদের কেউ পাচার হওয়ার সময় রক্ষা পেয়েছেন, কেউবা নতুন জীবন পেয়েছেন পালিয়ে এসে। এমনকি এখানে রয়েছেন নির্যাতিতা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা নারীরাও। তাদের নিয়েই জয়া ও জ্যাকবের সংসার। সেখানেই ডিজাইনের ব্যাগ, কুশন কিংবা কাঁথা তৈরীর পর সেগুলো রফতানি করা হয়।মানুষদের যেভাবে স্বাবলম্বী বানানো যায় তার উদহারণ দিয়ে জয়া বার্লিন বলেন, কাউকে যদি মাছ কিনে খেতে দাও, তাহলে সে একদিনের জন্য সুবিধা পাবে। কিন্তু তাকে যদি মাছ চাষ ও ধরার পদ্ধতি শিখিয়ে দাও, তাহলে সারাজীবন এটা শিখে সুবিধা পাবে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা নয়, তাদের কাজ শেখানোই লক্ষ্য। সাময়িক পাশে দাঁড়ালে, লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, সারাজীবন আমরা এখানে থাকতে চাই। আমরা একদম বাঙালী হয়ে যেতে পারিনি, কারণ আমাদের ভিসা আছে। এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব নেই। ওখানের সবকিছু (জমি, সম্পত্তি) বিক্রি করে এখানে বিনিয়োগ করেছি।

এরইমধ্যেই পাঁচ শতাধিক নারীকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদেরকে আর্ট থেরাপি কিংবা প্লে থেরাপি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন এই দম্পতি, যারা মানসিক কাউন্সেলিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।অন্যদিকে, চাকরীর সুবাদেই বাংলাদেশে আসেন জার্মান নাগরিক জ্যাকব বার্লিন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে পাড়ি জমান জয়া। বিয়ের পর একসঙ্গে সামাজিক নানা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের জীবন দর্শনে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাংলাদেশে বেঁচে থাকা বেশ কঠিন। শুধুমাত্র মানসিকভাবে শক্তিশালী হলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।

জ্যাকব বার্লিন বলেন, আমরা ফরিদপুর থেকে শুরু করেছি। লক্ষ্য আছে বাংলাদেশের সব প্রান্তে এই ধরণের কাজ করে যাওয়ার।এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে পাঁচ সন্তানসহ বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটাতে চান এই দম্পতি। সেই লক্ষ্যে সন্তানদের নামও রেখেছেন বাংলার ছোয়াতেই; ছেলের নাম আনন্দ, মেয়েদের নাম হাসি, খুশি, সুখি আর মিষ্টি।
সূত্র : যমুনা টিভি

- Advertisement -spot_img

More articles

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ