27.1 C
Khulna
Monday, September 1, 2025

মোংলা-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ, ভোগান্তি চরমে

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এন-৭ জাতীয় মহাসড়ক মোংলা-খুলনা সড়ক এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের অধিকাংশ জায়গা এখন গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। এর ফলে শুধু মোংলা বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নয়, ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল ও সুন্দরবনে পর্যটক যাতায়াতও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের ৪১ কিলোমিটার অংশ বাগেরহাট সড়ক বিভাগের অধীনে। এর মধ্যে কাটাখালী মোড় থেকে তেঁতুলিয়া সেতু ও দ্বিগরাজ রেলক্রসিং থেকে মোংলা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো গর্তের গভীরতা দেড় ফুটের বেশি হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।প্রায়ই বাস-ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ আমদানি-রফতানিমুখী শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের ৫ কিলোমিটার এলাকায় জমে থাকা কাদাপানির কারণে পথচারীরাও হেঁটে চলাচল করতে পারছেন না।

রোববার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা গেছে, মোংলা ফেরিঘাট থেকে রামপাল পাওয়ার প্লান্ট সংযোগ সড়ক পর্যন্ত যান চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।ট্রাকচালক করিব হোসেন ও কাভার্ডভ্যান চালক খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এই পথে চলাচল করে। কিন্তু সড়ক সংস্কার না করায় প্রায়ই যানবাহন গর্তে আটকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় রেজাউল করিম রনি অভিযোগ করে বলেন, সড়কের কাদা-পানির কারণে হাঁটাচলা থেকে শুরু করে যানবাহনে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুমে পাশের মাছের ঘেরের পানির চাপে সড়ক দুর্বল হয়ে যায়। এতে মাটি-বালু সরে গিয়ে সড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ইট-খোয়া দিয়ে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে সংস্কার শুরু হবে।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) এ কে এম আনিসুর রহমান ইসলাম জানান, বন্দরের আওতাধীন দিগরাজ থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে ইতোমধ্যে টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু হবে।

অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, মোংলা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের কিছু অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সাময়িক সংস্কার চলছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ