খুলনা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে খুলনা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন সাবেক নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ফরম সংগ্রহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি ‘ডামি প্রার্থী’। তবে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে, নির্বাচকের পদ ছাড়ার পরই রাজ্জাক নিশ্চিতভাবে পরিচালক হচ্ছেন।

খুলনা বিভাগ থেকে দুজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও মোহাম্মদ জুলফিকার আলি খান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন। যদিও খুলনা থেকে তিনজন ফরম কিনেছিলেন, তৃতীয় ব্যক্তি সমর্থক বা প্রস্তাবক জোগাড় করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ফরম জমা দিতে পারেননি। ফলে রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

রাজ্জাক জানান, বিভাগ থেকেই তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে প্রাথমিক প্রস্তাব পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রস্তাব পান তিনি। সিলেট সফর শেষে নমিনেশন জমা দিয়ে বলেন, “আমাকে বিভাগ থেকেই চেয়েছে। সে কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে। আমি মানসিকভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি।” নির্বাচকের পদ ছাড়া প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, আসন্ন সিরিজের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, পরবর্তী সিরিজে দায়িত্ব পালন করবেন মিনহাজুল আবেদীন লিপু ও হাবিবুল বাশার শান্ত।

ঢাকা ও চট্টগ্রামেও হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে দুজন করে পরিচালক নির্বাচিত হবেন। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। সেখানে মীর হেলালের জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, অন্য প্রার্থী হিসেবে আছেন আহসান ইকবাল।
ঢাকায় ফরম নিয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও রেদওয়ান ফুয়াদ। সমঝোতা হলে বুলবুল ও ফাহিম জয়ী হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্য বিভাগগুলোর পরিস্থিতি

বরিশাল বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিসিবি সভাপতির পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা ও ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মো. শাখাওয়াত হোসেন। সিলেট বিভাগে তিনজন ফরম কিনলেও এগিয়ে আছেন রাহাত শামস।
রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে হচ্ছে। মাত্র একটি পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ৬টি ফরম বিক্রি হয়েছে। ৯ জন কাউন্সিলরের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে একজন জয়ী হবেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে চারজন ফরম কিনেছেন।
ক্যাটেগরি-৩ থেকে অংশ নিচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, দেবব্রত পাল ও সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

আসল লড়াই ক্লাব ক্যাটেগরিতে

বিসিবি নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্যাটেগরি-২, অর্থাৎ ক্লাব পর্যায়ে। এ ক্যাটেগরি থেকে ৩২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জানা গেছে, এখানে তিন পরিচালক ফারুক আহমেদ, আমজাদ হোসেন ও ইমরাজ আহমেদ নিজেদের পদ ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এদিকে তামিমের প্যানেলে প্রকৃত ক্রিকেট সংগঠকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হননি। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বিরোধের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ এসেছে বলে জানা গেছে। তবে তামিমের প্যানেলে জায়গা না পেয়ে ইফতেখার রহমান মিঠু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

বিসিবি নির্বাচনে বিভাগীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন। তবে আসল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্লাব ক্যাটেগরিতে, যেখানে জয়ের জন্য সমঝোতা ও রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • শেয়ার করুন