দেশে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প: আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকার পরামর্শ বিএমডির

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

দেশের বিভিন্ন স্থানে পরপর বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। সংস্থাটির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কম্পনগুলো সিসমোলজির দৃষ্টিতে স্বাভাবিক এবং এগুলোর বেশিরভাগই মূল কম্পনের ‘আফটার শক’।

তিনি জানান, পরপর সংঘটিত ছোট ছোট কম্পন মূলত প্রধান কম্পন বা ‘মেইন শক’-এর শক্তি নির্গমনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এ ধরনের মৃদু কম্পন অনুভূত হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যবেক্ষণে বড় কোনো ভূমিকম্পের আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএমডি পরিচালক বলেন, “গত পরশুদিনের কম্পনটিকেই আমরা মেইন শক হিসেবে বিবেচনা করছি। একটি বড় ভূমিকম্পের আগে প্রি-শক এবং পরে আফটার শক হতে দেখা যায়। গতকাল যে ছোট ছোট কম্পনগুলো হয়েছে, সেগুলো আফটার শক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”

সাম্প্রতিক কম্পনের পর নরসিংদী, বাড্ডাসহ বেশ কিছু এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে—‘আর দুই ঘণ্টা পর বড় ভূমিকম্প হবে।’ এই গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন মমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা বারবার বলছি, যাচাই-বাছাইহীন তথ্য নয়, বরং বাংলাদেশ মেট্রোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।”

ভৌগোলিক অবস্থান ও ঝুঁকি

পরিচালক জানান, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত—ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেট। ফলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলো সরাসরি প্লেট বাউন্ডারিতে না হলেও মূল ফল্ট লাইনের সাবফল্ট থেকে আসতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।

তিনি আরও বলেন, “৫.৭ মাত্রার একটি মেইন শক ভূখণ্ড অ্যাবজর্ব করতে পেরেছে। তাই ৩ বা ৪ মাত্রার আফটার শক নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই আফটার শক থেমে যায়।”

জনগণের প্রতি পরামর্শ

বিএমডি জনগণের প্রতি গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমিকম্প সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • শেয়ার করুন