প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
শীতের গভীর রাতে রাজধানীর শাহবাগে হাদির বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক মানবিক ছবি। তাহাজ্জুদের অক্তে, ঘুমে ঢলে পড়া চোখে, সবার সঙ্গে হাত তুলে দোয়া করতে দেখা গেছে এক ছিন্নমূল শিশুকে—যে শিশুর শরীরে স্পষ্ট দারিদ্র্য ও অবহেলার চিহ্ন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরজো আহমেদ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শিশুটির অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, শিশুটির হাতে থাকা গুটি সম্ভবত সিভিয়ার স্ক্যাবিসের লক্ষণ। সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড চুলকানি, ফাটা ঠোঁট, শুকনো মুখ আর উসকোখুসকো চুল। শিশুটি একজন পথশিশু—ছিন্নমূল, অনাদরে বেড়ে ওঠা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এমন হাজার হাজার শিশু-কিশোর রাজপথে নেমে এসেছিল। আজ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতেও তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের এই আহ্বানে শুধু রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠকদেরই নয়, এই অবহেলিত শিশুরাও শরিক হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “এই দেশে যখন এই শিশুরা, এই গরিবেরা কারো পক্ষে রাস্তায় নামে সরকারকে তখন বিষয়টি সিরিয়াসলি নিতে শিখতে হবে।”
পোস্টে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আরজো আহমেদ লেখেন, একের পর এক শুক্রবার পার হয়ে যাচ্ছে, অথচ হাদি হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, তাদের অবস্থান সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। তিনি দাবি জানান, পৃথিবীর যে প্রান্তেই খুনিরা থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি মানবিক ও ধর্মীয় আবেদনে বলেন, “এই শীতের রাতে, রহমতের অক্তে মানুষের আর্জি কবুল করো। তুমি ইনসাফ দাও, ন্যায়বিচার দাও। সরকারকে সুমতি, সৎ সাহস ও সামর্থ্য দাও।”
শাহবাগের রাজপথে তখনো স্লোগান ভাসছে, “হাদি মানে আজাদি, হাদি মানে ইনসাফ।”
আর সেই স্লোগানের ভিড়ে, একটি ছিন্নমূল শিশুর দোয়া যেন আন্দোলনের সবচেয়ে নীরব কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে, ন্যায়বিচার শুধু রাজনীতির দাবি নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি।