প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার পরবর্তী আত্মসাতের ঘটনায় এসআই সহ আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
৪ জানুয়ারি বিকেলে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে গুরুতর অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকদ্রব্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত), এএসআই সাইফুল আলম, এএসআই মো. জিয়াউর রহমান, এএসআই মো. সাদ্দাম হোসেন ও এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।
জানাযায়, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে কক্সবাজারের পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি গুপন করে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা মাদকের চালানটি আত্মসাৎ করেন। ওই রাতেই ইয়াবা ভর্তি ট্রলি থেকে ইয়াবাগুলো বের করে নিয়ে বাকী কাপড়চোপড়ভর্তি ট্রলিসহ কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা প্রমাণিত হয়।
ঘটনা পরবর্তীতে তদন্তে কনস্টেবল ইমতিয়াজ কক্সবাজার কলাতলী এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারীর সাথে মিলে অর্থের বিনিময়ে কোনো ছুটি না নিয়ে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি প্রমানিত হয়।’