খুলনার দুই : আসন পরওয়ারের পরাজয়ের কারণ আ.লীগ, মঞ্জুর কোন্দল

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) এবং খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের ফলাফল সবার মাঝে বিস্ময় তৈরি করেছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে। খুলনা-২ আসনে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জামায়াতের নবীন নেতার কাছে হেরেছেন ৫ হাজার ৫৯২ ভোটে।

রাজনৈতিক মতের বাইরে খুলনার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় তারা দুজন। দল দুটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির স্থানীয় নেতারা পরাজয়ের কারণ হিসেবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে খুলনা-৫ আসনের বাতিল হওয়া ৬ হাজার ৫৩৭ ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। বিএনপিও খুলনা-২ আসনে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে দাবি করছে।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং দল দুটির নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কারণ। ডুমুরিয়া উপজেলায় ভোটের আগে আওয়ামী লীগের নেতা ও আওয়ামী লীগের অনেক ইউপি চেয়ারম্যান সরাসরি বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। আর মঞ্জুর পরাজয়ের কারণে হিসেবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, মহানগর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের মধ্যে কোন্দল, গোপনে বড় একটি অংশ বিরোধী ভূমিকায় থাকার প্রসঙ্গগুলো আলোচনায় আসছে।

খুলনা-৫ আসন
খুলনা-৫ আসনের ৯০ শতাংশ ভোট এবং ৯১ ভাগ ভোটকেন্দ্রই ডুমুরিয়া উপজেলায়। অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। নির্বাচনে তারাই বড় ভূমিকা রেখেছেন। যে কারণে শুধু ডুমুরিয়ায় ১১ হাজার ৪৯৭ ভোটে পিছিয়ে যান গোলাম পরওয়ার।
এদিকে শুক্রবার গণমাধ্যমকে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনি ভিত্তি পাওয়া গেলে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করা হবে। বাতিল হওয়া প্রায় ছয় হাজার ভোটের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের দাবি তোলেন তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে– এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি কাজ করেছে। ভোটের আগের দিন রাতে বিএনপির লোকজন তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছিল। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এলাকায় ফেরার প্রতিশ্রুতির কারণে তারাও কেউ কেউ বিএনপির পক্ষে কাজ করেছে। তবে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ বা হিন্দু ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগ মিথ্যা।

খুলনা-২ আসন
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছে। এবার আসনটি থেকে প্রার্থী হন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দলটির নেতারা জানান, ২০২১ সালে মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতাদের দূরত্ব শুরু হয়। মহানগর বিএনপির থানা, ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। মঞ্জুকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরও দীর্ঘদিন নিস্ক্রিয় ছিলেন তারা।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, কোন্দলের জন্য ইফেক্ট পড়েছে বেশি। নির্বাচনের আগে আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।
ns samokal

  • শেয়ার করুন