বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করেও ছেলে পেল জিপিএ-৫

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মহাসড়কের এক পাশে বাবার চায়ের দোকান, অন্য পাশে ছেলের স্কুল। ১৬ বছর ধরে সেই দোকানে চা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন বাবা। আর সেই চায়ের দোকানের পাশের স্কুলে বেড়ে ওঠা ছেলে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কারিগরি শাখা থেকে পেয়েছে জিপিএ-৫। ছেলের এমন সাফল্যে খুশির জোয়ার বইছে পরিবার ও বিদ্যালয়জুড়ে।

জুবায়েদ হোসেন প্রান্ত কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. আব্দুল হাই সেখ বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৬ বছর ধরে চা বিক্রি করছেন। মহাসড়কের এক পাশে বাবার চায়ের দোকান, আর ঠিক বিপরীত পাশে প্রান্তের বিদ্যালয়।

অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল প্রান্ত। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া ও পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার চায়ের দোকানেও সুযোগ পেলেই সহযোগিতা করত সে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তার শিক্ষাজীবনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

ছেলের ফলাফলে উচ্ছ্বসিত বাবা মো. আব্দুল হাই সেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার মতো খুশি আজকে কেউ নেই। আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে নিয়মিত লেখাপড়া করত, কোনো বাজে আড্ডা দিত না। নিয়মিত স্কুলেও যেত।

ভবিষ্যতে ছেলেকে কী হিসেবে দেখতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মানুষের মতো মানুষ হবে৷ এটাই আমার স্বপ্ন।’

নিজের সাফল্য নিয়ে শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসেন প্রান্ত ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি পলিটেকনিক থেকে পড়াশোনা করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। বাবার চায়ের দোকানে সুযোগ পেলে আমি সহযোগিতা করতাম। পড়াশোনা শেষ করে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।

ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইয়ামিন হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বহির্বিশ্বে চা দোকানি হয়েও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের দেশে স্কুলের পাশে চা বিক্রেতার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্যও আনন্দের। ফলাফল প্রকাশের পর বাবা ও ছেলে মিষ্টি নিয়ে স্কুলে এসেছিলেন। আমরাও খুব খুশি হয়েছি।

বাবার চায়ের দোকান আর বিদ্যালয়ের মাঝের ছোট্ট দূরত্ব পেরিয়ে প্রান্তের এই সাফল্য যেন স্বপ্ন দেখার নতুন গল্প তৈরি করেছে। তার স্বপ্ন এখন আরও বড়, পড়াশোনা শেষ করে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।
ns coll

  • শেয়ার করুন