শপথ নিয়েই জুলাই শহিদ পরিবার ও আহত‌দের পাশে হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শপথ গ্রহণের পরপরই নিজ নির্বাচনি এলাকায় জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে শহিদদের খোঁজখবর নেন এবং আহতদের সঙ্গে সময় কাটান।

জানা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ প্রথমেই গত ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত শহিদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি রুবেলের মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় রুবেলের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন।এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে শহিদ আমিনুল ইসলাম সাব্বির এর বাড়িতে যান। এ সময় তার মাকে ২ লাখ টাকা অর্থ দিয়ে একটি দোকান দেয়ার জন্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করে দেন। পরে মহেশপুর গ্রামে শহিদ জহিরুল ইসলাম ও বড়শালঘর গ্রামে শহিদ সাগরের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ও অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন।

শহিদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় জুলাই আন্দোলনে আহতদের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য। সেখানে জুলাইয়ের হামলায় বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা মাদরাসা ছাত্র আবু বকর, মো. ইয়াছিন, তুষার মোল্লা, সৌরভ ও মাহমুদুল হাসানের মতো আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে বসে খাবার খান এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তদারকির আশ্বাস দেন।এ সময় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্ত এবং আহতদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা এই স্বাধীন ও নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বিজয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, বরং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে দেবিদ্বারের মাটিতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দখলবাজি বরদাশত করা হবে না।জুলাই শহিদ ও আহতদের নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শহিদদের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না, তবে তাদের স্বপ্ন পূরণে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আহতদের পুনর্বাসন ও শহিদ পরিবারগুলোর পাশে থাকা তার অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্বের অংশ। এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ns coll

  • শেয়ার করুন