সাংবাদিকদের মেরে লাঠি ভেঙ্গে ফেলল পুলিশ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’

পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।
ns coll

  • শেয়ার করুন