প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্ছিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের পথে তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করত এলাকার কয়েকজন যুবক। মেয়ে বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে গিয়ে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
এই অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্ছিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়ার ছেলে ফাহিম মিয়াজী (২৪), আইয়ুব করিম কটিয়ার ছেলে মো. সাকিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
স্কুলে অভিযোগ করার জেরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যায় নিশ্ছিন্তপুর বাজারে অভিযুক্তরা জাকির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এই হামলার ঘটনার আগেই চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী।
বাবার মৃত্যুতে কাঁদতে ভেঙে পড়েছে সন্তানরা। নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার ও বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। স্বামী হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন, সেই আকুতি জানিয়ে তিনিও স্বামী হত্যার কঠোর বিচার চান।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, হামলায় আহত জাকির হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
Ns dbc