প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে পৃথক দুটি স্কুলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে চরএকরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যখন নিয়মিত ক্লাস চলছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ আট শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো—সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম; অষ্টম শ্রেণির মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
আহত শিক্ষার্থী দোলা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলে, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে স্কুলের ওপর বজ্রপাত পড়ে। স্যারসহ আমরা কয়েকজন কিছুই বুঝে ওঠার আগে অজ্ঞান হয়ে যাই।’
একই সময়ে উপজেলার আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য বাহাদুর মৃধা জানান, সেখানে বজ্রপাতের বিকট শব্দ ও আতঙ্কে আরও আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির জানান, বজ্রপাতের শব্দের তীব্রতায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল কাদের জানান, দাদপুর স্কুলের আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত কেউ দগ্ধ বা গুরুতর আহত হয়নি। বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দে তারা মূলত ‘শক’ বা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা এখন শঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে।
উপজেলার এই ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, কালবৈশাখী মৌসুমে স্কুল চলাকালে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে।
ns coll