প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। ইরানি-আমেরিকান নাগরিক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে ব্রাজিলের গণমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহর করা গোলটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়, যা ছিল ‘স্পষ্ট বৈষম্যমূলক’। আফরাসিয়াবির দাবি, গোলটি বহাল থাকলে ইরান ম্যাচটি জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারত।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, জাতীয় দলের বিরুদ্ধে কথিত বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকেরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছাড়াও বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলকে একাধিক বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার দাবি, দলকে যুক্তরাষ্ট্রে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং দলের ১১ সদস্যের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
আফরাসিয়াবির মতে, এসব পরিস্থিতিতে ইরান দলের জন্য সমান সুযোগ ও প্রস্তুতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফিফার আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের এসব পদক্ষেপ শুধু তাকে নয়, কোটি কোটি ইরানিকেও অপমানিত করেছে।
মামলায় জয়ী হলে ক্ষতিপূরণের অর্থের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি মামলায় গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ফিফার পক্ষে রায় দেয়। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
সূত্র: wanaen.com