২০২৫ সালে ‘খুনের’ শহর ছিল খুলনা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বছরে খুলনা নগরী ও জেলায় মোট ৮৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৬টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪৭টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নদী থেকে অর্ধ শতাধিক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আলোচিত একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ড :

গত ১১ জুলাই দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় দিনে-দুপুরে বাড়ির সামনে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে।

৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে, যা বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি।গত ১৭ নভেম্বর নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে কালভার্টের পাশে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা ও তার দুই নাতি ফাতিহা এবং মুস্তাকিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই দিনে সোনাডাঙ্গার করিমনগরে ঘরের ভেতরে ঢুকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয় আলাউদ্দিন মৃধা নামে এক যুবককে।
এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজারে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন। ১৪ ডিসেম্বর রাতে রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতু এলাকায় গুলিতে নিহত হয় যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাগর।

হত্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ শনাক্ত

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, নগরীর ৩৬টি খুনের ঘটনায় একাধিক ভিন্ন কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, জমি ও ব্যবসায়িক বিরোধ, চুরি, প্রেমঘটিত বিষয় এবং অজ্ঞাত কারণেও খুনের ঘটনা রয়েছে।

কেএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত ২৩টি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলমান।

থানাভিত্তিক ও মাসভিত্তিক চিত্র :

মাসভিত্তিক হিসাবে মে, আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। থানাভিত্তিক হিসেবে সদর, সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানায় খুনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।
জেলায় রূপসা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।জেলা পুলিশের তথ্যে দেখা গেছে, ৯ উপজেলায় সংঘটিত ৪৭টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রূপসা উপজেলায়ই ঘটেছে ১৩টি যার বেশিরভাগই গুলিতে। এরপর ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও দাকোপ উপজেলায় খুনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

বাড়ছে উদ্বেগ, দায়ীদের ধরার দাবি
পুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বের হওয়া একাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ছে।

খুলনার নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
ns: coll

  • শেয়ার করুন