প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা-৩ আসন শ্রমিক অধ্যূষিত এলাকা। শিল্পনগরী হলেও নেই সেই জৌলুস। এখানকার সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ। পাটকলের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাদী খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল ও হার্ডবোর্ড মিলও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বন্ধ বেশ কয়েকটি বেসরকারি পাটকলও। এই অবস্থায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ৯ জন।
প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মো. আব্দুল আউয়াল, বাসদের জনার্দন দত্ত, এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এফ এম হারুন অর রশীদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ। এই নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা। ৯ প্রার্থীর পেশার মধ্যে ৫ জন ব্যবসায়ী, ৩ জন শিক্ষক ও একজন ছাত্র।প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বার্ষিক আয়, সম্পদ ও মামলায় জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের চেয়ে এগিয়ে বিএনপি’র প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। রকিবুল ইসলাম বকুল অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৩ টাকা। তার বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৮০ হাজার ১৮৭ টাকা।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৩৯ টাকার। তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯০১ টাকা।প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বিএনপি’র প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ, পেশা ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার অস্থাবর সম্পদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৬৪৩ টাকা। এরমধ্যে নগদ অর্থ ৩৩ হাজার ৮২৮ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৫ টাকা, ২০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য, ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ লাখ টাকা মূল্যের আগ্নেয়াস্ত্র। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকার ভবন রয়েছে। বাড়ি নির্মাণের জন্য তার দায় রয়েছে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৮০৪ টাকা। তার স্ত্রী’র নামে বর্তমানে আনুমানিক ১ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৮ টাকার অস্থাবর এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৭ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এমএসসি পাশ, পেশা শিক্ষকতা। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। তার ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯০ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৮ লাখ ১৮ হাজার ৭৯০ টাকার, ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার মোটরযান রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৮ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান ৪ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়ালের শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ, পেশা শিক্ষকতা। তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। তার বর্তমান মূল্যে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৫ টাকার অস্থাবর এবং ১০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৪ হাজার টাকার আয়কর প্রদান করেছেন।
বাসদের প্রার্থী জনার্দন দত্ত এমএসসি পাশ, পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বর্তমানে আনুমানিক মূল্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার অস্থাবর রয়েছে। নেই কোন স্থাবর সম্পদ।এনডিএমের প্রার্থী শেখ আরমান হোসেন স্নাতক পাশ, পেশার ঘরে লিখেছেন ছাত্র। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা। ৩ লাখ ৬০০ টাকার অস্থাবর রয়েছে তার। নেই স্থাবর সম্পদ।
জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এসএসসি পাশ, পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে আনুমানিক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর এবং ৬০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এফ এম হারুন অর রশীদ এমএ, এমএড পাশ। পেশা শিক্ষকতা। তিনি একটি মামলায় খালাস/অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৫ লঅখ ৪৫ হাজার ২১৪ টাকা। বর্তমানে আনুমানিক ১৭ লাখ ৯ হাজার ২৪ টাকার অস্থাবর এবং ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তার স্ত্রীর ৪২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৪ হাজার টাকার আয়কর প্রদান করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন এসএসসি পাশ, পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৪ টাকা। বর্তমানে আনুমানিক এক কোটি ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩ টাকার অস্থাবর এবং ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৬১ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৫০ হাজার টাকার আয়কর প্রদান করেছেন।এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন মোহাম্মদ মায়াজ শিক্ষাগত যোগ্যতা নবম শ্রেণি, পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। তার বর্তমানে আনুমানিক ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৯ টাকা অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদের ঘওে তিনি দান হিসেবে ১৫৬০ স্কয়ার ফিটের এ্যাপার্টমেন্ট উল্লেখ করেছেন। তবে মূল্য উল্লেখ করেননি। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪ টাকার আয়কর প্রদান করেছেন।
ns coll