ট্রাম্পকেই ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিলেন খামেনি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে বলে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই সঙ্গে তিনি চলমান বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলেন এবং বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তোলেন।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত যে রেজা শাহ, মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো বিশ্ব স্বৈরশাসকরা তাদের অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেই পতনের মুখে পড়েছিল। তাকেও (ট্রাম্প) একদিন পতন বরণ করতে হবে।’
অস্থিরতার মুখে ইরান পিছু হটবে না বলেও জানান খামেনি। বলেন,
ইরান হাজারো সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সামনে এই দেশ কখনোই মাথা নত করবে না।

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতেই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
খামেনি আরও বলেন,
তারা তাকে (ট্রাম্প) সন্তুষ্ট করতে চায়। সে যদি সত্যিই জানত কীভাবে একটি দেশ চালাতে হয়, তাহলে নিজের দেশটাই ঠিকভাবে চালাত। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অসংখ্য সমস্যা রয়েছে।
ভাষণের শেষ দিকে খামেনি তার সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,
প্রিয় যুবসমাজ, তোমরা প্রস্তুতি ও ঐক্য ধরে রাখো। ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের পরিস্থিতি ‘খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’ যুক্তরাষ্ট্র। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেয়া হবে’।

এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া প্রায় দুই সপ্তাহের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান কর্তৃপক্ষ সারা দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি জানায়,
ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি টানা ১২ ঘণ্টা ধরে কার্যত অফলাইনে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, এই অস্থিরতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতা বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি গভীর হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।

  • শেয়ার করুন